সিরাজগঞ্জে মধু রিফাইন প্লান্ট

আহরণের তুলনায় কম পরিশোধনের সক্ষমতা, সাড়া মিলছে না খামারিদের

সিরাজগঞ্জে প্রতি মৌসুমে প্রায় ৩০০ টন মধু আহরণ করা হয়। এসব মধু পরিশোধন করতে ২০২২ সালে উল্লাপাড়ায় নির্মিত হয় রিফাইন প্লান্ট।

সিরাজগঞ্জে প্রতি মৌসুমে প্রায় ৩০০ টন মধু আহরণ করা হয়। এসব মধু পরিশোধন করতে ২০২২ সালে উল্লাপাড়ায় নির্মিত হয় রিফাইন প্লান্ট। গত বছর প্লান্টটি চালু করা হলেও চাহিদা অনুপাতে রিফাইন সক্ষমতা কম। প্রতিদিন মাত্র এক টন মধু রিফাইন করা হচ্ছে প্লান্টটিতে। এ কারণে খামারিরা সেভাবে আসছেন না।

খামারিরা বলছেন, জেলায় প্রতি বছরই সরিষার আবাদ বাড়ছে। সরিষার আবাদ বৃদ্ধি পাওয়ায় মধু আহরণও বাড়ছে। এখানকার মধুর গুণগত মান ভালো হওয়ায় সাতক্ষীরা, যশোর, খুলনা, নাটোর, বগুড়াসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শতাধিক খামারি প্রতি মৌসুমে প্রায় ১৮ হাজার মৌবাক্স স্থাপন করেন। যা থেকে মধু উৎপাদন হয় প্রায় ৩০০ টন। মধুর গুণগত মান বজায় রাখতে রিফাইন প্লান্ট নির্মাণের দাবি ছিল দীর্ঘদিনের। তবে প্লান্ট নির্মিত হলেও এর কার্যক্ষমতা সে তুলনায় অনেক কম।

খামারি মঞ্জু ইসলাম বলেন, ‘এ অঞ্চলে প্রচুর মধু উৎপাদন হয়। মধু রিফাইন করে বিক্রি করলে বেশি দাম পাওয়া যায়। গুণগত মানও ঠিক থাকে। উল্লাপাড়ায় রিফাইন প্লাট নির্মাণ হলেও প্রতিদিন অল্প পরিমাণে মধু পরিশোধন করা যায়।’

সিরাজগঞ্জ মৌ খামারি মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি আব্দুল রশিদ বলেন, ‘জেলায় প্রতি মৌসুমে প্রায় ৩০০ টন মধু উৎপাদন হয়। খামারিরা যদি মৌসুমে ১০০ টন মধুও রিফাইন করতে চান, এজন্য সময় লাগবে সাড়ে তিন মাস। এর মধ্যে মৌসুম শেষ হয়ে যাবে। এতে অধিক মুনাফা থেকে বঞ্চিত হবেন শতাধিত খামারি। তাই প্লান্টের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা জরুরি।’

তবে উল্লাপাড়া উপজেলা প্রকৌশলী মো. শহিদুল্লাহ বলেন, ‘মধু রিফাইন প্লান্ট চালু রয়েছে। কিন্তু খামারিরা সেভাবে আসছেন না।’

জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মধু উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় উল্লাপাড়ার মোহনপুর বাজারে মধু রিফাইন প্লান্ট নির্মাণ করা হয়। ২০১৯-২০ অর্থবছরে এর নির্মাণকাজ শুরু করা হয়। উল্লাপাড়া উপজেলা পরিচালন ও উন্নয়ন প্রকল্পের (ইউজিডিপি) মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকার ও জাইকার অর্থায়নে নির্মিত প্লান্টে ব্যয় হয় ২৯ লাখ ৬৯ হাজার টাকা। নির্মাণকাজ শেষে ২০২২ সালে এটি উদ্বোধন করেন তৎকালীন সংসদ সদস্য তানভীর ইমাম। তবে প্রতি ২৪ ঘণ্টায় মাত্র এক টন মধু রিফাইন করা যায়। খামারিরা প্রতি কেজি মধু ১০ টাকা ব্যয়ে রিফাইন করতে পারবেন। উল্লাপাড়া উপজেলা প্রকৌশল বিভাগের কারিগরি তত্ত্বাবধানে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে উপজেলা পরিষদ। তবে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা না থাকায় এবং চাহিদার তুলনায় সক্ষমতা কম হওয়ায় খামারিদের তেমন কাজে আসছে না প্রকল্পটি।

উল্লাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুবর্ণা ইয়াসমিন বলেন, ‘২০২২ সালে নির্মাণকাজ শেষ হলেও গত বছর থেকে মধু রিফাইন প্লাট চালু হয়েছে। প্লান্টে প্রতি ২৪ ঘণ্টায় এক টন মধু রিফাইন করা যায়। গত বছর সাড়ে তিন টন মধু রিফাইন করা হয়েছে। এর সুবিধা সম্পর্কে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা করা হয়েছে। কিন্তু খামারিদের মধ্যে আগ্রহ খুবই কম। তারা প্লান্টে এসে মধু রিফাইন করতে আগ্রহ দেখান না।’

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক একেএম মঞ্জুরে মাওলা বলেন, ‘সরিষার মাঠে মৌ-চাষে কৃষক ও মৌচাষী উভয়ই সমানভাবে লাভবান হন। কারণ সরিষা ফুলে মৌমাছি বসে এর পরাগায়ন ঘটায়। ফলে ভালো ফলন পাওয়া যায়। মধু সংগ্রহ লাভজনক হওয়ায় দিন দিন জেলায় সরিষার পাশাপাশি মৌচাষীদের সংখ্যাও বাড়ছে। জেলায় প্রতি বছর সরিষা ফুল থেকে প্রায় ৩০০ টন মধু সংগ্রহ হচ্ছে। তবে মধু রিফাইন করে বিক্রি করতে পারলে যেমন এর গুণগত মান ঠিক থাকে, পাশাপাশি বেশি দামে বিক্রি করা যায়। সেই প্রচেষ্টা থেকে মধু রিফাইন প্লান্ট নির্মাণ একটি ভালো উদ্যোগ। প্লান্টে প্রতিদিন এক টন মধু রিফাইন করা যাচ্ছে। খামারিরা আগ্রহ ভরে এখানে না আসায় যুক্তিসংগত পরিমাণ মধু রিফাইন করা যাচ্ছে না।’

তবে চলতি বছর বিপুল পরিমাণ মধু খামারিরা রিফাইন করবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। প্রয়োজনে প্লান্টের সক্ষমতাও বাড়ানো হবে।

আরও